ইউনুসের ‘পাপেট কমিশন’ ও এনসিপি প্রতীক নাটক: আড়ালের আসল খেলা কী?
এই নাটকের প্রথম উদ্দেশ্যই এনসিপিকে আলোচনায় রাখা।
আন্তঃবাণী প্রতিবেদক:
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘কিংস পার্টি’ নামেই পরিচিত ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি) এবার নির্বাচন কমিশনে প্রতীক বরাদ্দের নাটকীয়তা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। অথচ দেশের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যে নির্বাচন কমিশন নিজেই আইনি বৈধতার প্রশ্নে ঝুলন্ত, তারা কীভাবে আবার ‘আইনের দোহাই’ দিয়ে প্রতীক বরাদ্দ আটকে রাখছে?
সাবেক কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “এই নির্বাচন কমিশনের গঠনই হয়েছে বেআইনি পথে। সংবিধানের বিধান লঙ্ঘন করে, রাজনৈতিক সমঝোতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে যে পদ্ধতিতে ইসি গঠিত হয়েছে, তাতে তাদের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।”
তিনি আরো বলেন, “আরপিও অনুযায়ী একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য যে শর্তগুলো পূরণ করতে হয়—অন্তত এক তৃতীয়াংশ জেলায় কার্যকর জেলা কমিটি, ১০০টি উপজেলায় অফিস এবং প্রতিটিতে ২০০ জন ভোটার সদস্য—তার অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি এনসিপি। তবুও তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন সেই একই কমিশন আইনের দোহাই দিচ্ছে প্রতীক না দেওয়ার ক্ষেত্রে। এটা আসলে এক প্রহসন।”
পলাশ মনে করেন, আইনের দোহাই কেবল একটি নাটকীয় আবরণ। তিনি বলেন, “আগেও দেখা গেছে, এই কমিশন কিছুমাত্র ভাড়াটে কর্মীর আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ও নিবন্ধন বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেনি। অথচ এখন তারা হঠাৎ আইনমুখী হয়ে উঠেছে, যা হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়।”
আলোচনায় রাখার কৌশল
তার মতে, এই নাটকের প্রথম উদ্দেশ্যই এনসিপিকে আলোচনায় রাখা। তিনি বলেন, “এই দলটির মাঠ পর্যায়ে কোনো সাংগঠনিক শক্তি বা জনভিত্তি নেই। ঢাকায় বসে কয়েকজন মুখ—হাবা দুল্লাহ, সার্ভিস, নাহিদ বা ডার্বি নাসির—টকশো আর বিদেশি দূতাবাসের চা চক্রে ঘুরে রাজনীতি করার ভান করে। কিন্তু বাস্তবে তাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই। প্রতীক নিয়ে ইসিতে আসা-যাওয়াই এখন তাদের রাজনৈতিক টিকে থাকার একমাত্র উপায়।”
ইউনুস গোষ্ঠীর ‘দীর্ঘায়ু কৌশল’
তিনি আরো বলেন, “এই নাটক ইউনুস গোষ্ঠীর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত রাখার হাতিয়ার। যেমন তারা কথিত ‘ঝুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর না করার নাটক করে সময়ক্ষেপণ করেছে, তেমনি এখন প্রতীক ইস্যু নিয়েও এক কৃত্রিম জট সৃষ্টি করছে, যেন প্রয়োজনে এটি পুঁজি করে আবারো লোক দেখানো আন্দোলন করে নির্বাচনের সময়সূচি পিছানো যায়।”
এনসিপি বনাম জামায়াত: পারস্পরিক নাট্যসংঘ
আমিনুল হক পলাশ আরো বলেন, “নতুন করে এনসিপির নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বয়ান দিচ্ছেন—দুই দিন আগে নাহিদ দিয়েছে, আজ দিয়েছে ডার্বি নাসির। অপরদিকে জামায়াতের নেতারাও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হালকা ধমক দিচ্ছেন। এটি নিছক মিউচুয়াল কেওয়াজ—এক ধরনের পারস্পরিক নাট্যসংঘ, যাতে উভয় পক্ষই আলোচনায় থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনী এলাকায় এনসিপির প্রার্থীর চেয়ে হিরো আলমও বেশি ভোট পাবেন। তবুও তাদের ঘিরে এই শব্দসৃষ্টির উদ্দেশ্য কেবল গণমাধ্যমে টিকে থাকা।”
শেষে আমিনুল হক পলাশ মন্তব্য করেন, “মরা গাছে পানি ঢাললে যেমন ফল আসে না, তেমনি এনসিপিকে প্রাসঙ্গিক করার এই প্রয়াসও নিষ্ফল। এই প্রতীক নাটকের আড়ালে আসল খেলা হলো—একদল অকার্যকর চরিত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতার ছকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।”
এবি/সিএস





