সিন্ডিকেট মানতে নারাজ সরকার, অস্থির পেঁয়াজের বাজার

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের পরেও অস্থির পেঁয়াজের বাজার। মাঠ থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ। কিছুদিন পরই নতুন পেঁয়াজে ভরপুর থাকবে বাজার। পাশাপাশি এখনো দেশে এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে

Dec 17, 2025 - 12:31
Dec 17, 2025 - 12:54
 0
সিন্ডিকেট মানতে নারাজ সরকার, অস্থির পেঁয়াজের বাজার

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের পরেও অস্থির পেঁয়াজের বাজার। মাঠ থেকে বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ। কিছুদিন পরই নতুন পেঁয়াজে ভরপুর থাকবে বাজার। পাশাপাশি এখনো দেশে এক লাখ টনের বেশি পুরোনো পেঁয়াজ মজুত রয়েছে।দেশজুড়ে পেঁয়াজের বাজার এখন লাগামহীন। বছরের শেষ সময়ে এসে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নতুন পেঁয়াজ এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাঠ থেকে না ওঠায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ মানের দিক থেকে ভালো না হওয়ার পাশাপাশি দামও তুলনামূলক বেশি। তবে বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ পুরোপুরি আসতে শুরু করলে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. ইমদাদুল হক বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। বাজারে পেঁয়াজ থাকার পরও বিক্রেতারা এক মাস ধরে বাড়তি দামে বিক্রি করছে। তবে বাজারে এসে দেখি এক লাফে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা দেখার কেউ নেই। একই দিন রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ঘুরে ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিপাল্লা (৫ কেজি) পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। যা কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১২০ টাকা। চার দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। আর এই পেঁয়াজ শ্যামবাজারে এক মাস আগেও ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শ্যামবাজারের আড়তদার হেদায়াত উল্লাহ  বলেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। কারণ পুরোনো পেঁয়াজে গাছ হয়ে গেছে। নতুন পেঁয়াজ কৃষক ধরে রাখছে। যার কারণে সরবরাহ কম, দাম বেশি। তাই সরকারকে আমদানির অনুমতি দিতে হবে। আমদানি হলে দাম কমে আসবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন বলেন, প্রকৃতপক্ষে বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানির অনুমতি দিতে সরকারকে বাধ্য করতেই সিন্ডিকেটচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। অথচ এখনো এক লাখ টনেরও বেশি পুরোনো পেঁয়াজ আছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে। তারা পেঁয়াজ কিনে মজুত করছে, বাজারে ছাড়ছে না। দেশে ভালো উৎপাদন হলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা করছেন। মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি হলে কৃষক ঠকবেন। আর এখন বাজারে নজরদারি না বাড়ালে ভোক্তার পকেট কাটা যাবে।

এদিকে কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। এরপরও সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করেছে বিটিটিসি। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় কমিশন এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের বিবেচনার জন্য বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে পাঠানো হয়েছে। 

কমিশন জানায়, কিছু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করছে। এ সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৯০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অথচ বাজারে তা ১১৫ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে পার্শ্ববর্তী দেশে একই পেঁয়াজের দাম বর্তমানে ৩০ টাকার মধ্যে।

এবি/এসআর