সিনিয়র ভাইকে খুশি করতে সহপাঠীদের গোপন ছবি তুলে পাঠাতেন বাকৃবি ছাত্রী

অভিযুক্ত ছাত্রী নিয়মিতভাবে সহপাঠী মেয়েদের ঘুমন্ত বা অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তুলে তা এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে পাঠাতেন।

Oct 29, 2025 - 12:27
 0
সিনিয়র ভাইকে খুশি করতে সহপাঠীদের গোপন ছবি তুলে পাঠাতেন বাকৃবি ছাত্রী

আন্তঃবাণী প্রতিবেদক: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক ছাত্রী সহপাঠীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি গোপনে তুলে এক ‘সিনিয়র ভাইয়ের’ কাছে পাঠানোর অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রী নিয়মিতভাবে সহপাঠী মেয়েদের ঘুমন্ত বা অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তুলে তা এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে পাঠাতেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগীয় শিক্ষক ও অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ দাখিল করেন।

ঘটনার পর তদন্ত ও সমাধানের জন্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কয়েকজন শিক্ষককে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা ডিনের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত ছাত্রী সম্প্রতি ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। আর যিনি ছবিগুলো গ্রহণ করতেন, তিনি একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসে। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ছবি আদান-প্রদানের প্রমাণ পাই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি সহপাঠীদের বিভিন্ন ছবি তুলে এক সিনিয়র ভাইকে পাঠাতেন।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি সিলগালা করে ডিন অফিসে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও নিরোধ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অভিযুক্ত প্রভাষকও ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মেয়েটির সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা বলেছি। সে যেসব ছবি পাঠিয়েছে, আমি সেগুলো সংরক্ষণ করিনি। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না, তবে আমার কাজের জন্য অনুতপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।”

সহপাঠীরা জানান, ইন্টার্নশিপ চলাকালে ওই ছাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি নজরদারিতে রাখেন। পরে প্রমাণ মেলে যে, তিনি গোপনে সহপাঠীদের ছবি তুলতেন। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিভাগীয় শিক্ষকদের অবহিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এবি/সিএস