আ.লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২ দফা সুপারিশ ৬ মানবাধিকার সংস্থার
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে যৌথভাবে পাঠানো এক খোলাচিঠিতে তারা এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে ১২টি সুপারিশ দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে যৌথভাবে পাঠানো এক খোলাচিঠিতে তারা এসব প্রস্তাব তুলে ধরে এবং সাম্প্রতিক মানবাধিকার পুনরুদ্ধার ও আইনি সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা জানায়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে তারা আশাবাদী হয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা খাতে কাঠামোগত সংস্কার এখনও সম্পন্ন হয়নি, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এখনো জবাবদিহিতার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
চিঠিতে পূর্ববর্তী সরকারের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার ও চলমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বলা হয়, বর্তমানে মিয়ানমারে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নেই, তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
১২ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা খাতে সংস্কার, গুমের অপরাধ নির্ধারণ ও তদন্ত কমিশন শক্তিশালীকরণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার, ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংস্কার, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও নজরদারি সীমিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সুরক্ষা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সিভিল সোসাইটি ও এনজিও স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা—সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
তারা আশা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন এক শক্তিশালী মানবাধিকারভিত্তিক কাঠামো গড়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
এবি/সিএস





