আজ ত্রয়োদশ সংসদ ও গণভোট: দুই ব্যালটে ভোট, ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের শঙ্কা
আজ সারা দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে, এই দ্বৈত ভোট প্রক্রিয়ার কারণে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে, এর সঙ্গে যুক্ত হবে পোস্টাল ব্যালটের গণনা। এই কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং ২৩ জানুয়ারি ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন। আখতার আহমেদ বলেন, গণনায় বেশি সময় লাগার কারণে ভোটের ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে, পোস্টাল ব্যালট গণনা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকালীন বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য স্থাপিত মিডিয়া সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসি সচিব জানান যে, পোস্টাল ব্যালট পেপারের কাঠামোগত কারণে একাধিকবার যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এতে কিছুটা দেরি হলেও তা কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের আওতাধীন কেন্দ্রগুলোর ভোটের ফলাফল যোগ করে তা ঘোষণা করবেন এবং এরই মধ্যে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ফলাফল কম্পাইলেশনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সংসদ ও গণভোটের ফল একসঙ্গেই ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রেও ভোট গণনা একইসঙ্গে শুরু হবে এবং ফলও একইসাথে দেওয়া হবে। এতে করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পাওয়ার পর পোলিং এজেন্টরা যাতে গণভোটের ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্র ছেড়ে না যান, অথবা গণভোটের ফল আগে ঘোষণা করে বাইরে অস্থিরতা তৈরি না হয় – তা নিশ্চিত করা যাবে। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আশা প্রকাশ করেছেন, যত শিগগির সম্ভব নির্বাচনের পরপরই অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পোস্টাল ব্যালট গণনা এবার মূল দেরির কারণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্ধারণ করে দেওয়া কক্ষে পোস্টাল ব্যালট গোনা শুরু হবে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ প্রিসাইডিং অফিসার এই গণনার দায়িত্ব পালন করবেন, যেখানে প্রার্থীর মনোনীত পোলিং এজেন্টরাও উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনার শুরুতে খাম খুলে ঘোষণাপত্রে ভোটারের সই যাচাই করা হবে। যথাযথ সইযুক্ত ঘোষণাপত্র থাকলেই ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনা করা হবে। কেন্দ্রের মতোই পোস্টাল ব্যালটেও সংসদ ও গণভোটের ব্যালট প্রাথমিকভাবে গণনা করা হলেও, ঘোষণাপত্র যাচাই-বাছাইসহ একাধিক ধাপ পার করতে হওয়ায় এখানে সবচেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী মনে করেন, নির্বাচন কমিশন যদি জোর চেষ্টা চালায় তাহলে শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই ফল প্রকাশ করতে পারবে, এবং তার আগেও ফল আসতে থাকবে ও প্রকাশ হতে থাকবে। এদিকে, ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কত শতাংশ ভোট পড়লো, সেই তথ্য দুই ঘণ্টা পরপর সংগ্রহ ও ইসির নির্ধারিত ডিজিটাল সিস্টেমে আপলোড করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোটে ফল ঘোষণায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল। আজকের নির্বাচনে ৫০টি দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটাররা সাদাকালো ব্যালটে সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটের জন্য ভোট দেবেন।





