ট্রাম্প নয়, শান্তিতে নোবেল জিতলেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা

২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাডো।

Oct 10, 2025 - 15:47
 0
ট্রাম্প নয়, শান্তিতে নোবেল জিতলেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা
সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাডো। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) নরওয়ের রাজধানী অসলোর নোবেল ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের শান্তি পুরস্কারের নাম ঘোষণা করেন নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান।

মাচাডো পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছেন ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনর (প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), একটি নোবেল ডিপ্লোমা এবং একটি সোনার পদক।

কেন তাকে পুরস্কৃত করা হলো

নোবেল কমিটি তাদের ঘোষণায় বলেছে—

“ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবিচল ও নির্ভীক সংগ্রাম, অহিংস প্রতিরোধের পথ অনুসরণ এবং জনগণকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করে ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ মারিয়া কোরিনা মাচাডোকে ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।”

কমিটি আরও জানায়, গণতন্ত্রের জন্য অহিংস সংগ্রাম শুধু ভেনেজুয়েলাতেই নয়, বরং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে মাচাডোর জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ট্রাম্পও

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জমা পড়েছিল ৩৩৮টি মনোনয়ন—এর মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি ও ৯৪টি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান। প্রার্থীদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার প্রশাসন আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছে এবং সে কারণেই তিনি এ পুরস্কারের যোগ্য। তিনি নিজেকে ২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী বারাক ওবামার সঙ্গে তুলনাও করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে নিরলস সংগ্রামী মারিয়া কোরিনা মাচাডোকেই বেছে নেয়।

সাম্প্রতিক নোবেল প্রেক্ষাপট

গত বছর (২০২৪) শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল জাপানের অ্যান্টি-নিউক্লিয়ার সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো, যা হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলার বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সংগঠন। ২০২৩ সালে পুরস্কার পান ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি, যিনি নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। আর ২০২২ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিলিয়াতস্কি, রুশ সংস্থা মেমোরিয়াল ও ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেল পান ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ—মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তাদের নির্ভীক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে।

ইতিহাসের আলোকে

শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি তিনবার এ সম্মান অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (১৯১৭, ১৯৪৪, ১৯৬৩)। দুইবার নোবেল পেয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (১৯৫৪ ও ১৯৮১)।

অন্যদিকে, বয়সের রেকর্ডেও আছে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত—সবচেয়ে কম বয়সে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই (২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে) এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট (১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে)।

বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

মাচাডোর পুরস্কারপ্রাপ্তি ভেনেজুয়েলাসহ গোটা লাতিন আমেরিকায় নতুন করে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের আলোচনায় প্রাণ সঞ্চার করেছে। দেশটির দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও দমননীতির বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে জনতাকে সংঘবদ্ধ করেছেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এবি/সিএস