শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের শেষ কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল পুলিশ বাহিনীর মনোবলে নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও পড়বে।

Oct 15, 2025 - 18:33
 0
শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের শেষ কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ

আন্তঃবাণী প্রতিবেদক: জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ তিন দশকের সম্মানজনক উপস্থিতির পর বাংলাদেশ পুলিশের শেষ কনটিনজেন্টকে কঙ্গো থেকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ—শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বৈশ্বিক কূটনীতির মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান।

১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় প্রথম অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ এসে থামছে এক অনিশ্চয়তার প্রান্তে। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা শুধু শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার উদাহরণ স্থাপন করেননি, তারা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের মানবিক মূল্যবোধ, নারী নেতৃত্বের শক্তি, এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতীকী বার্তা। বিশেষ করে নারী এফপিইউ ইউনিট—যা কঙ্গোতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির প্রশংসা অর্জন করেছিল—তাদের প্রত্যাবর্তন যেন এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে চলেছে।

জাতিসংঘের আর্থিক সংকট ও জনবল হ্রাস নীতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, অভ্যন্তরীণ সূত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট যে কূটনৈতিক সক্রিয়তার ঘাটতিও এখানে ভূমিকা রেখেছে। কেবল আংশিক হ্রাসের পরিবর্তে পুরো কনটিনজেন্ট প্রত্যাহার—এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রভাব ও আলোচনাশক্তির সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল পুলিশ বাহিনীর মনোবলে নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও পড়বে।

একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার কথাতেই যেন সারসংক্ষেপ লুকিয়ে আছে—

“এই মিশন শুধু পুলিশের অর্জন নয়, এটি জাতির মর্যাদা। সেটি যদি নিঃশেষ হয়ে যায়, তা হবে জাতির আত্মসম্মানেরও ক্ষয়।”

এখন প্রশ্ন একটাই—সরকার কি জাতিসংঘের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও অবদানকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে?

এবি/সিএস