শাপলা পাচ্ছে না এনসিপি: থালা, বেগুনসহ ৫০টি থেকে প্রতীক বাছাই করার নির্দেশ ইসির
১৯ অক্টোবরের মধ্যে তারা বিকল্প প্রতীক জানাতে হবে। না দিলে ইসি নিজ উদ্যোগে প্রতীক নির্ধারণ করবে।”
আন্তঃবাণী প্রতিবেদক: শাপলা প্রতীক না দিয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নিবন্ধন প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শাপলার বিকল্প হিসেবে খাট, থালা, বেগুন, বালতিসহ ৫০টি প্রতীক থেকে বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে দলটি এসব প্রতীকের মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে পারবে; তা না হলে ইসি নিজ উদ্যোগে একটি প্রতীক নির্ধারণ করে দেবে।
ইসি জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন,
“জাতীয় নাগরিক পার্টিকে শাপলা দেওয়ার সুযোগ নেই। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে তারা বিকল্প প্রতীক জানাতে হবে। না দিলে ইসি নিজ উদ্যোগে প্রতীক নির্ধারণ করবে।”
তবে এনসিপি এখনো শাপলা প্রতীকেই অনড় অবস্থানে। দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন,
“শাপলার বিষয়ে আমরা অনড়। ইসির এভাবে প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ নেই। শাপলা না দিলে রাজনৈতিকভাবে মাঠে মোকাবিলা করা হবে।”
ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী ‘শাপলা’ কোনো অনুমোদিত প্রতীক নয়। ফলে দলটি চাইলেও এই প্রতীক নিবন্ধন পাবে না। প্রাথমিক আবেদনপত্রে এনসিপি শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন প্রতীক চেয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করে শাপলা, লাল শাপলা ও সাদা শাপলা উল্লেখ করে।
বিকল্প প্রতীক হিসেবে ইসি যে ৫০টি প্রতীক দিয়েছে তার মধ্যে আছে—আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
এর আগে ৭ অক্টোবরের মধ্যে বিকল্প প্রতীক জানাতে এনসিপিকে চিঠি দিয়েছিল ইসি। কিন্তু দলটি পুনরায় শাপলা প্রতীকেই আবেদন করে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এটি বিধিমালার পরিপন্থী আচরণ। তাই কমিশন ১৯ অক্টোবরের পর নিজস্ব সিদ্ধান্তে দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ চূড়ান্ত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির এই অনমনীয় অবস্থান তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। কারণ আইন অনুযায়ী অনুমোদিত প্রতীকের বাইরে কোনো প্রতীক অনুমোদন করা ইসির এখতিয়ার নেই।
এবি/সিএস





