৫৪তম মহান বিজয় দিবস: নতুন স্বপ্নে ফেরা ও আগামীর বাংলাদেশ
রক্ত দিয়ে কেনা বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। বিজয়ের আনন্দে ভাসছে পুরো দেশ। ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি শহীদ মিনার ভরে ওঠে ফুলেল শ্রদ্ধায়।
আজ ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন। ৫৪ বছর আগে, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মাথা নত করেছিলো বীর বাঙালির অদম্য সাহসের কাছে। বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৫ সালের এই বিজয় দিবসটি যেন একটু অন্যরকম, একটু বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, জাতি আজ দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি।
১৯৭১ সালে আমাদের লড়াই ছিল ভৌগোলিক স্বাধীনতা ও পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে। আর ২০২৪-২৫ সালে আমাদের লড়াই দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রকে মেরামত করার, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। ৫৪ বছর আগের বিজয়ের মূল মন্ত্র ছিল—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। মাঝখানের অনেকটা সময় আমরা এই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলাম। চব্বিশের তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থান আমাদের আবারও সেই একাত্তরের মূল চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আজকের বিজয় দিবস তাই কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বরং একাত্তরের চেতনাকে নতুন করে ধারণ করার দিন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
বিজয় দিবসের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও আমাদের বর্তমান বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। দেশ এখন রাষ্ট্র সংস্কারের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা—এগুলোই এখনকার মূল চ্যালেঞ্জ।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বীকার করতে হবে, বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ভিন্ন মত ও পথের মানুষ মিলেই একটি রাষ্ট্র। বিজয় মানে কোনো নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর জয় নয়, বিজয় মানে আপামর জনসাধারণের মুক্তি। সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং মেধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজই হবে বিজয়ের প্রকৃত সার্থকতা।
আগামীর প্রত্যাশা
৫৪ বছরে পদার্পণ করা বাংলাদেশ আজ আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, দীর্ঘ দেড় যুগের চেষ্টায় বাংলাদেশ স্বনির্ভরতার যে মুখ দেখেছিল তা আবার এক অনিশ্চয়তার মুখ দেখছে। আবার সব সংকট কাটিয়ে ওঠার মতো সক্ষমতাও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হোক—আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ব যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থাকবে না, যেখানে কথা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে এবং যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। একাত্তরের বিজয়ের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা গড়ে তুলব আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা।
রক্তে কেনা এই পতাকার মর্যাদা আমরা সমুন্নত রাখবই। সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
এবি/এসআর/আরআর





