যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে সামান্যই
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে সরকারি খাতের আমদানি বাড়লেও সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির ওপর প্রভাব হবে সীমিত। কারণ, বাংলাদেশে গমের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশই পূরণ করে বেসরকারি খাত। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫৯ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে, যার মাত্র ছয় শতাংশ এসেছে সরকারি পর্যায় থেকে।
আন্তঃবানী নিউজ ডেস্ক :
সরকার বাণিজ্য ঘাটতি সামান্য হলেও কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর সাত লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি (২১ জুলাই) সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সমিতি ‘ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন’-এর মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই গম আমদানি করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে সরকারি খাতের আমদানি বাড়লেও সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির ওপর প্রভাব হবে সীমিত। কারণ, বাংলাদেশে গমের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশই পূরণ করে বেসরকারি খাত। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫৯ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে, যার মাত্র ছয় শতাংশ এসেছে সরকারি পর্যায় থেকে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি অপ্রতুল
গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো গম আমদানি হয়নি। গত ২২ বছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে মোট সোয়া ২২ লাখ টন গম এসেছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতেই এসেছে ১৭ লাখ টনের বেশি। সরকারি পর্যায়ে সর্বশেষ গম আমদানি হয়েছে ২০১৭ সালে। সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে—সাড়ে চার লাখ টন। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, নাবিল গ্রুপসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করেছে।
গম আমদানির বর্তমান চিত্র
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ গম আমদানিতে ব্যয় করেছে ১৬৩ কোটি ডলার (শুল্কায়ন মূল্য ২২ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা)। এই গম এসেছে আটটি দেশ থেকে।
রাশিয়া: ২৭ লাখ টন (৪৬%)
ইউক্রেন: ১১ লাখ টন (১৮%)
কানাডা: ১৯%
আর্জেন্টিনা: ৮%
বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া: ৩% করে
ব্রাজিল: ২%
অস্ট্রেলিয়া: ১%
বর্তমানে আমদানি হওয়া গমের প্রায় ৭০ শতাংশই সাধারণ আমিষযুক্ত (low-protein), যা মূলত রুটি ও সাধারণ বেকারি পণ্যে ব্যবহৃত হয়। এই গমের দাম টনপ্রতি ২৬৪ থেকে ২৭৫ ডলারের মধ্যে। উচ্চ আমিষযুক্ত (high-protein) গম, যা পরোটা, উন্নত বিস্কুট ও মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত হয়, আসে মূলত কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। এই গমের টনপ্রতি দাম ৩০০ থেকে ৩১৩ ডলারের মধ্যে। আর্জেন্টিনা থেকে উভয় ধরনের গমই আমদানি হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের ভূমিকাই মুখ্য
ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক মনে করেন, বাণিজ্যঘাটতি কমাতে হলে বেসরকারি খাত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান তুলনামূলকভাবে ভালো। প্রতিযোগিতামূলক দামে সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি খাতও আগ্রহ দেখাবে।”
তাঁর মতে, শুধু গম নয়—যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, এলপিজি, সয়াবিন ও ইস্পাত কারখানার কাঁচামাল স্ক্র্যাপসহ আরও অন্তত চার বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা সম্ভব। তবে এজন্য সরকারের লজিস্টিকস খাতে নীতিগত সহায়তা বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মত দেন।
এবি/এসএফ





