ফ্লাইট MH370 – আকাশে মিলিয়ে যাওয়া বিমানের রহস্য

৮ মার্চ ২০১৪। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট MH370 মাঝরাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। গন্তব্য ছিল চীনের বেইজিং। বিমানে ছিলেন ১২ জন ক্রু এবং ২২৭ জন যাত্রী, মোট ২৩৯ জন মানুষ।  কিন্তু উড্ডয়নের ৪০ মিনিট পর, বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

Jun 11, 2025 - 22:39
Jun 11, 2025 - 23:17
 0

রহস্যের শুরু – ৮ মার্চ ২০১৪। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট MH370 মাঝরাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। গন্তব্য ছিল চীনের বেইজিং। বিমানে ছিলেন ১২ জন ক্রু এবং ২২৭ জন যাত্রী, মোট ২৩৯ জন মানুষ।  কিন্তু উড্ডয়নের ৪০ মিনিট পর, বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরের আকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে MH370 যেন আকাশে গায়েব হয়ে যায়।

শেষ বার্তা ও রাডার থেকে অদৃশ্য

রাত ১টা ১৯ মিনিটে, পাইলট চূড়ান্তভাবে বলেন, ‘Good night, Malaysian three-seven-zero’।  এটি ছিল বিমানটির সর্বশেষ কণ্ঠ বার্তা।
 তার কিছু মুহূর্ত পর বিমানটি মালয়েশিয়ার সিভিল রাডার থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়। 

পরে দেখা যায়, এটি পরিকল্পিত পথ ছেড়ে বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে এবং পশ্চিমে, আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে গেছে।  কিন্তু কেন এই মোড়? এবং কে এই নির্দেশ দিয়েছিল—সেই প্রশ্ন রয়ে যায় আজও।

অনুসন্ধান অভিযান

MH370-র সন্ধানে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়।  অস্ট্রেলিয়া, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৬টি দেশ সমুদ্র ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধানে নামে। Boeing 777 উড়ার সময় স্যাটেলাইট সংস্থা Inmarsat যে ‘হ্যান্ডশেক সিগনাল’ পেয়েছিল, তা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়— ফ্লাইটটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে চলে গেছে এবং সম্ভবত জ্বালানি শেষ হয়ে সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে।

ধ্বংসাবশেষ
২০১৫ সালের জুলাই মাসে, রিইউনিয়ন দ্বীপের তীরে একটি বিমানের ফ্ল্যাপারন পাওয়া যায়—যা MH370-এর বলে নিশ্চিত করা হয়।  পরবর্তীতে মোজাম্বিক, তানজানিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।  তবে বিমানের মূল অংশ, ব্ল্যাকবক্স বা কোনো যাত্রীর দেহাবশেষ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।  যা এই ঘটনার রহস্য আরও বাড়িয়ে তোলে।"

ষড়যন্ত্র ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা

MH370 নিখোঁজ হওয়ার পরই বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সামনে আসে। অনেকে মনে করেন, ককপিট থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে রুট বদলে ফেলা হয়েছিল—হয়তো পাইলট নিজেই পরিকল্পনা করেছিলেন। আবার কেউ বলেন, সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিমানটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল।
 কেউ কেউ এটি হাইজ্যাকের তত্ত্ব দাড় করান। এমনকি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ডিয়েগো গার্সিয়া’-তে গোপনে নামানো হয়েছে বলেও দাবী উঠে।
 তবে এগুলোর কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অজানা রহস্য

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ান সরকারের প্রকাশিত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিমানের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।  তবে এটিও বলা হয়—সম্ভবত 'মানব হস্তক্ষেপ' ছিল এর পেছনে। তদন্ত শেষ হলেও, MH370 একটি অনন্ত প্রশ্ন হয়ে রয়ে যায়।

এখনও পরিবারগুলো অপেক্ষায়—তাদের প্রিয়জনেরা কোথায় হারিয়ে গেল?

ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া একটি ট্র্যাজেডি
MH370 শুধু একটি বিমান নয়, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।  আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও ২৩৯ জন মানুষসহ একটি Boeing 777 বিমান কীভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

আপনার কি মনে হয়, এর পেছনে পরিকল্পিত কিছু ছিল? নাকি প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা?