ভারতের চাল দুবাই থেকে কেন কিনছে বাংলাদেশ?

ভারতীয় চাল দুবাই থেকে আনায় চালের দাম বেশি পড়বে কি না, এই প্রশ্নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “এখানে ট্রান্সপোর্টেশন না, প্রাইস না, দুই দেশের যে অসম বাণিজ্য ঘাটতি, সেই বিষয়গুলো এখানে জড়িত।

Oct 28, 2025 - 15:48
 0
ভারতের চাল দুবাই থেকে কেন কিনছে বাংলাদেশ?

আন্তঃবাণী নিউজ ডেস্ক :

মরুভূমির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চাল উৎপাদন হয় না, নিজেরাই তারা আমদানিনির্ভর। সেই দেশ থেকে বাংলাদেশের চাল কেনা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।

ভারতীয় চাল কেন সে দেশ থেকে না এনে দুইবারের পরিবহন খরচ যোগ করে দুবাই থেকে আনা হবে?- এই প্রশ্নে একজন কর্মকর্তা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির কথা তুলে ধরে সেটি আর না বাড়ানোর যুক্তি দিয়েছেন।

গত ২২ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ মিয়ানমার ও দুবাই থেকে মোট ১ লাখ টন চাল কেনা অনুমোদন দেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সেদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মিয়ানমার থেকে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আর দুবাই থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আসবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ-২’র আওতায় ৫০ হাজার টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন ৩৫৫ দশমিক ৯৯ ডলার হিসাবে দুবাইয়ের মেসার্স ক্রিডেন্টওয়ান এফজেডসিও থেকে এই চাল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা।

আর মিয়ানমার থেকে ‘জি টু জি’ ভিত্তিতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতি টন ৩৭৬ দশমিক ৫০ ডলার হিসাবে এতে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।

দুবাই কিন্তু তার চালের চাহিদার পুরোটাই আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে সিংহভাগ যায় ভারত থেকে। তবে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর চালের বড় পুনঃরপ্তানি হাব, যা আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পুনরায় রপ্তানি করে।

ক্রেডেন্টওয়ান এফজেসিওর মতো কোম্পানিগুলো ভারতীয় বাসমতি এবং নন-বাসমতি চালের বড় আমদানিকারক। ফলে, এই আমদানি যদিও ‘দুবাই থেকে’ বলা হচ্ছে, তা পরোক্ষভাবে ভারত থেকেই আনা হচ্ছে হাত ঘুরে।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “চাল সরবরাহকারীর অফিস দুবাই। এখন দুবাই থেকে চাল আমদানি যদি মিডিয়ায় আসে আমরা কী বলব? আসলে চালের সোর্স হলো ইন্ডিয়া।”

ভারতের চাল ভারত থেকে কেন আনা হচ্ছে না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে ওপেন টেন্ডার হয়, সারা পৃথিবীর সরবরাহকারীরা এতে অংশ নিতে পারে। তার অফিস কোথায় এটা তো কোনো বিষয় না। সে কোন দেশ থেকে দেবে, কাকে দেবে এটা হলো গুরুত্বপূর্ণ।

দুবাই থেকে আনায় চালের দাম বেশি পড়বে কি না, এই প্রশ্নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) মো. জামাল উদ্দীন বলেন, “এখানে ট্রান্সপোর্টেশন না, প্রাইস না, দুই দেশের যে অসম বাণিজ্য ঘাটতি, সেই বিষয়গুলো এখানে জড়িত। হয়ত ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি আর বাড়াতে চাচ্ছে না।”

দুবাইয়ে জনশক্তি রপ্তানি করায় সেখানকার মুদ্রা আসছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা এই যুক্তিও দেন যে, “সেজন্য সেখান থেকে আনাটা আমাদের জন্য সহজ। আমরা ওখান থেকে করা আয় থেকে দায় শোধ করছি।”

এবি/এসএফ