বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জাতিসংঘের হাইকমিশনারের আহ্বান

ফলকার টুর্ক বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, তারা যেন চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্ন করে এবং নির্বিচারে আটক থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করে।

Oct 16, 2025 - 00:11
 0
বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জাতিসংঘের হাইকমিশনারের আহ্বান

আন্তঃবাণী ডেস্ক: বাংলাদেশে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

বুধবার জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া জবাবদিহিতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। “দেশটিতে জোরপূর্বক গুমের জন্য এই প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি ভিকটিম ও তাদের পরিবারের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত,” উল্লেখ করেন টুর্ক।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়, যেখানে ডিজিএফআই ও র‍্যাবের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। এরপর সেনাবাহিনীও গত সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

হাইকমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তাদের দ্রুত একটি উপযুক্ত বেসামরিক আদালতে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। “আন্তর্জাতিক আইনে ন্যায়বিচারের কঠোর মানদণ্ডের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখানো অপরিহার্য। এসব মামলার ভিকটিম ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন টুর্ক।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করেছিল জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান মিশন।

ফলকার টুর্ক বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, তারা যেন চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্ন করে এবং নির্বিচারে আটক থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করে। এর মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক গুম থেকে বেঁচে আসা ব্যক্তিরা ও বিগত সরকারের সমর্থক এবং সাংবাদিকেরা, যাদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অভিযোগের গুরুত্ব যাই হোক না কেন, আদালতে কোনো মামলায় যেন মৃত্যুদণ্ডের রায় না দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা, সত্য বলা, ক্ষতিপূরণ, নিরাময় ও ন্যায়বিচারের সমন্বিত প্রক্রিয়াই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম পথ।”

এবি/সিএস