দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ৮৫৭ জন ভর্তি
এখনই মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রভাব কমার কোনো লক্ষণ নেই। এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫৭ জন রোগী।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৩৩ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫৫ হাজার ৪১৬ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫২ হাজার ৫৬১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে—১৬৩ জন। এরপর রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৩৮ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় ১৩৬ জন, চট্টগ্রামে ৮৭ জন, রাজশাহীতে ৭৬ জন, খুলনায় ৬০ জন, ময়মনসিংহে ৩৯ জন, রংপুরে সাতজন এবং সিলেটে ছয়জন।
এ সময় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এবং একজন ঢাকা উত্তরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যদিও গত বছরের তুলনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম, তবুও সংক্রমণের গতি এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
২০২৪ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সাল ছিল ডেঙ্গু ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর—সে সময় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যান এবং ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বেড়ে যায়। তাই এখনই মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে।
এবি/সিএস





