গাজার ৯২ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে ইসরাইল, পুনর্গঠনে লাগবে কয়েক প্রজন্ম
টানা দুই বছর ধরে চলা সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ফিলিস্তিনিরা তাদের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজার ৯২ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ফলে হামলা বন্ধ হওয়ার পর শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। উপত্যকায় টানা দুই বছর ধরে চলা সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ফিলিস্তিনিরা তাদের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা আমির আবু ইয়াদেহ বলেন, “দুঃখ-কষ্ট যতই হোক, অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরতে পেরেছি। তবে বাড়ি বলতে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ রয়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গাজার অবরোধ না খোলা পর্যন্ত ত্রাণ কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাজারোপাল উল্লেখ করেছেন, গাজার বাড়িঘর ধ্বংস একটি গণহারে বাস্তুচ্যুতির মতো ঘটনা—ডোমিসাইড—যা জাতিগত নিধনের অন্যতম উপাদান। তার মতে, গাজার পুনর্গঠন শেষ হতে কয়েক প্রজন্ম সময় লাগবে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল সেনা কিছু এলাকা সরিয়েছে, তবে গাজায় ৫৩ শতাংশ এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বেসামরিক সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর গাজায় প্রায় ৫ লাখ ফিলিস্তিনি বাড়িতে ফিরেছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫৫টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ত্রাণ সরবরাহের জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শত শত ট্রাক প্রস্তুত রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতারা মিসরে গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের অস্ত্রসমর্পণ এবং গাজার শাসন নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সমঝোতা এখনো হয়নি।
ফিলিস্তিনিরা এখন শুধু চায়, “আর যেন কখনও পালাতে না হয়।” দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত মানুষদের জন্য এই যুদ্ধবিরতি হয়তো প্রথম শ্বাসের মতো মুক্তি এনে দিয়েছে।
এবি/সিএস





