ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ: ১৯১ রানের টার্গেটেও লজ্জার হার

মাত্র ১৯১ রানের লক্ষ্যও তাড়া করতে ব্যর্থ হলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

Oct 12, 2025 - 00:16
 0
ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ: ১৯১ রানের টার্গেটেও লজ্জার হার
সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ যেন বারবার বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে, তবে এবার সেটা আনন্দের নয়—হতাশার। মাত্র ১৯১ রানের লক্ষ্যও তাড়া করতে ব্যর্থ হলো মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়েছে ১০৯ রানে। ফলে ৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে ২৮ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। এখন বিশ্বকাপে খেলতে হলে তাদের বাছাইপর্ব পেরোতে হবে।

আজ শনিবার শারজাহ স্টেডিয়ামে ১৯১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৪ ওভারেই ১০০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। একসময় ৯৯ রানে ৫ উইকেট থাকা দল মুহূর্তেই পরপর তিন ব্যাটার হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ফাইন লেগে বশির আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ হাসান। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাইফ হাসান ছোট ছোট ইনিংস খেললেও জুটি গড়তে পারেননি। ২৫ রানে শান্ত রানআউট হন, ৪০ রানে সাইফ আউট হন ওমরজাইয়ের বলে থার্ড ম্যানের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ব্যর্থ—ওমরজাইয়ের বলেই এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন, রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি। ৫০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

জাকের আলী ও তাওহিদ হৃদয় মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটিতে আসে ২৯ রান। কিন্তু ৭৯ রানে রশিদ খানের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন হৃদয় (৩৪ বলে ২৪)। তখনও মনে হচ্ছিল, ১৯০ রানের লক্ষ্যটা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়। ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটির তখন প্রয়োজন ছিল আর ৯১ রান।

ঠিক তখনই শুরু হয় বিপর্যয়। ৯৯ রানে নুরুল হাসান সোহান সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড, পরের বলেই এলবিডব্লু তানজিম হাসান সাকিব। পরের ওভারে শর্ট কাভারে রশিদের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন জাকের আলী। স্কোরবোর্ড তখন ৯৯/৮। এরপর তানভির ইসলাম ফিরলেন দলের তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পরই।

রিশাদ হোসেন শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন মোস্তাফিজকে নিয়ে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ১০৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৪৪.৫ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট হয়। ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ছিলেন ইনিংসের নায়ক—১৪০ বলে ৯৫ রানের ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। সেঞ্চুরির মাত্র ৫ রান দূরে থেকে মিরাজের বলে রিশাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

আফগানদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন মোহাম্মদ নবী ও গজনফর। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট, রিশাদ ও তানজিম নেন ২টি করে, আর তানভিরের ঝুলিতে যায় ১ উইকেট।

সিরিজে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। কিন্তু সহজ টার্গেটেও ভয়াবহ ব্যর্থতায় সব সম্ভাবনা ভেসে গেল জলে—সঙ্গে ডুবে গেল বিশ্বকাপের টিকিটও।

এবি/সিএস