দক্ষিণ সুদানে ‘ত্রিভুজ প্রেম’ ঘিরে বন্দুকযুদ্ধে ১৪ সেনা নিহত

দক্ষিণ সুদানের তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলে এক ‘ত্রিভুজ প্রেম’কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন

Oct 8, 2025 - 23:55
Oct 8, 2025 - 23:57
 0
দক্ষিণ সুদানে ‘ত্রিভুজ প্রেম’ ঘিরে বন্দুকযুদ্ধে ১৪ সেনা নিহত

আন্তঃবাণী ডেস্কঃ

দক্ষিণ সুদানের তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলে এক ‘ত্রিভুজ প্রেম’কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার, একটি বাজার এলাকায়, যা দক্ষিণ সুদান ও সুদানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার সংঘর্ষ শুরু হয় সরকারপন্থী ও বিরোধীপন্থী যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত ইউনিফায়েড ভিআইপি প্রোটেকশন ফোর্সের সদস্যদের মধ্যে। দক্ষিণ সুদানের সেনাবাহিনী এসএসপিডিএফ-এর মুখপাত্র লুল রুয়াই কোয়াং জানান, সংঘর্ষটি শুরু হয় দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মধ্যে বিবাদ থেকে— যাদের একজন প্রেসিডেন্ট সালভা কিয়িরের অনুগত এবং অপরজন প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়েক মাচারপন্থী।

কোয়াং বলেন, “সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুটি মত রয়েছে— একটি মতে এটি ছিল ব্যক্তিগত বিরোধ, অন্য মতে এটি ছিল একটি ‘ত্রিভুজ প্রেমের’ জটিলতা।” তিনি জানান, উভয় কর্মকর্তা একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে মাচারপন্থী কর্মকর্তা কিয়িরপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীকে গুলি করে হত্যা করেন।

এরপর দুই পক্ষের দেহরক্ষীদের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি গুলি। সংঘর্ষটি বাজার এলাকা থেকে সেনা চেকপোস্ট ও ব্যারাকে ছড়িয়ে পড়ে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে ৮ জন এসএসপিডিএফ এবং ৬ জন এসপিএলএ-আইও (মাচার অনুগত বাহিনী) সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন বেসামরিক নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার অবস্থা এখনো নিশ্চিত নয়। আহত পাঁচজন সেনাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ সুদানে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট কিয়ির ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাচারের মধ্যে ২০১৮ সালে একটি শান্তিচুক্তি হলেও, তা এখন অনেকটাই ভঙ্গুর অবস্থায়।

গত মাসেই মাচারের বিরুদ্ধে খুন, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে প্রথম উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কোয়াং অবশ্য বলেন, “এই ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়,” তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ সুদান আবারও গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু ২০২৫ সালেই দেশটিতে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতার কয়েক বছরের মধ্যেই দেশটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। ২০১৮ সালের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হলেও, নির্বাচন আয়োজন ও সেনাবাহিনী একীভূতকরণে ব্যর্থতা দেশটিকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এবি/এসবিডাব্লিউ