গোপালগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো ICRF
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি (NCP) আয়োজিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (ICRF) এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক নিধন’ বলে অভিহিত করে জাতিসংঘের নৈতিক কার্যালয় (Ethical Office)-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।
আন্তঃবাণী ডেস্কঃ
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি (NCP) আয়োজিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশন (ICRF) এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক নিধন’ বলে অভিহিত করে জাতিসংঘের নৈতিক কার্যালয় (Ethical Office)-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে।
সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪ জন বললেও, ICRF’র দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা অন্তত ২১ জন। সংগঠনটি সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
সেদিন দুপুর ১টার দিকে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজ ও লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার সূচনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ শুরুর আগেই বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ মিউনিসিপ্যাল পার্কে মঞ্চস্থ সমাবেশে হঠাৎ শুরু হয় সংঘর্ষ, যা মুহূর্তেই শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
ICRF-এর অভিযোগ: সেনাবাহিনী, সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক নিধন
জাতিসংঘে প্রেরিত এক চিঠিতে ICRF দাবি করেছে, এনসিপি একটি অনিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন এবং তাদের লক্ষ্য ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল ‘অপবিত্র ও ধ্বংস’ করা। স্থানীয় জনগণ যখন প্রতিরোধে এগিয়ে আসে, তখন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সমাবেশকারীরা হামলা চালায় এবং সরাসরি গুলি বর্ষণ করে।
ICRF আরও অভিযোগ করেছে যে, সংঘর্ষের পর সেনা সদস্যরা সাধারণ নাগরিকদের আটক করে নির্যাতন করে। তারা জাতিসংঘের কাছে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জবাবদিহির দাবি তোলে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পরদিনই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল ঘানিকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যেখানে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, সেখানে কেবল সরকারি তদন্তে নিরপেক্ষতা ও প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য পরিণতি
ICRF-এর অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছানোর ফলে বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের ঘটনাটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশের জন্য একটি নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক মামলা হয়ে উঠতে পারে, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও ভাবমূর্তির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।





