বয়সের ব্যবধান, কিন্তু হৃদয়ের বন্ধনে সুখী দাম্পত্য

বয়সে বড় যিনি, তাঁর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই মূল্যবান, তবে সেটা কখনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। সিদ্ধান্ত নিতে হলে উভয়ের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমনি ছোটজনের কাছ থেকেও প্রত্যাশা থাকে দায়িত্বশীলতার। যদি কেউ সঙ্গীর মতামতকে ‘পুরোনো’ ভেবে এড়িয়ে যান, সম্পর্ক সেখানে ঠোকর খেতে বাধ্য।

Jul 15, 2025 - 13:38
Jul 15, 2025 - 13:43
 0
বয়সের ব্যবধান, কিন্তু হৃদয়ের বন্ধনে সুখী দাম্পত্য

আন্তঃবাণী ডেস্ক :

মানুষের সম্পর্ক যতটা হৃদয়ের, ততটাই মনেরও। অনেক সময় আমরা ভাবি—একই বয়সী হলে মনের মিল বেশি হবে, বোঝাপড়া সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও বহু দম্পতি দিব্যি সুখী জীবন কাটাচ্ছেন। বয়সের ফারাকটা হয়তো সমাজের চোখে চোখে পড়ে, কিন্তু যখন দুজন মানুষ একে অপরকে সত্যিকারের ভালোবাসেন ও বোঝেন, তখন বয়স কেবল একটি সংখ্যা হয়ে যায়। 

ভিন্ন বয়স, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি—কীভাবে গড়ে ওঠে মিল?

যিনি বয়সে বড়, তিনি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে অনেককিছু দেখেছেন, শিখেছেন। অন্যদিকে, যিনি ছোট, তাঁর চোখে থাকে তারুণ্যের দীপ্তি, স্বপ্নের ঝলক। এই দুয়ের মিশেলে সৃষ্টি হতে পারে ভারসাম্যপূর্ণ এক দাম্পত্য। একজন যখন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেন, অন্যজন তখন এনে দেন আবেগ আর উদ্দীপনার ছোঁয়া।

তবে এ ভারসাম্য তখনই টিকে থাকে, যখন থাকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝার ইচ্ছা। সম্পর্কটাকে একতরফা না করে, দুইজন মিলে টানাটানি নয়, বরং একে অপরকে টেনে তুলতে পারলেই আসে দীর্ঘস্থায়ী সুখ।

বোঝাপড়ার ভিত্তি—খোলামেলা যোগাযোগ

সম্পর্কে সমস্যা আসবেই, মতের অমিল হবেই। কিন্তু সুখী দম্পতিরা যেটা করেন, সেটা হলো—তারা এসব এড়িয়ে না গিয়ে আলোচনা করেন। একজন হয়তো রাত্রি জাগেন, আরেকজন সকালে ওঠেন; একজন বাড়ি ফিরতে চান সন্ধ্যার আগেই, অন্যজন রাত অবধি বাইরে থাকতেই স্বচ্ছন্দ। এই ব্যবধানকে যদি বিবাদে না পরিণত করে বরং আলোচনায় রূপান্তর করা যায়, তবেই জন্ম নেয় বোঝাপড়া।

একজন যদি নিজের ইচ্ছেগুলো গোপন না রেখে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেন, অপরজন যদি মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন—তাহলেই গড়ে ওঠে সংলাপের সেই পরিমণ্ডল, যেখানে সম্পর্ক বাঁচে, বাড়ে।

দায়িত্ববোধ ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা

বয়সে বড় যিনি, তাঁর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই মূল্যবান, তবে সেটা কখনো চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। সিদ্ধান্ত নিতে হলে উভয়ের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমনি ছোটজনের কাছ থেকেও প্রত্যাশা থাকে দায়িত্বশীলতার। যদি কেউ সঙ্গীর মতামতকে ‘পুরোনো’ ভেবে এড়িয়ে যান, সম্পর্ক সেখানে ঠোকর খেতে বাধ্য।

সংসার মানে একটা ‘আমি’ ও ‘তুমি’ থেকে ‘আমরা’ হয়ে ওঠা। আর তার জন্য দরকার নিজেদের কিছু বদলানো, কিছু ছাড় দেওয়া। ভালোবাসার টানে যদি নিজের কিছু অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তাতে ক্ষতি নেই—বরং সম্পর্ক আরও পরিণত হয়।

সংবেদনশীল বিষয়: আগে জানুন, পরে মানুন

বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতিদের মধ্যে কিছু সংবেদনশীল বিষয় বেশি করে উঠে আসে—যেমন, পোশাক, পেশা, পারিবারিক মূল্যবোধ, সন্তান নেওয়ার সময় ইত্যাদি। এসব বিষয়ে আগে থেকেই খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার।

ধরুন, বয়সে বড় সঙ্গীটি সন্তানের কথা ভাবছেন, কারণ বয়স ও পারিবারিক চাপ—কিন্তু ছোটজন হয়তো তখনও নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান। এমন অবস্থায় একে অপরকে বোঝার চেষ্টাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়াও ভালো, যাতে সিদ্ধান্ত হয় যৌথভাবে ও বিজ্ঞতার সঙ্গে।

শেষ কথা

বয়সে বড় কিংবা ছোট—সে যেই হোক, সম্পর্কের শিকড় যদি মজবুত হয় বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়, তবে বয়সের ব্যবধান কিছুমাত্র বাধা হতে পারে না। বরং দুই প্রজন্মের অভিজ্ঞতা আর আধুনিকতার সেতুতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সুন্দর দাম্পত্য।

অন্যরকম এক সুখের গল্প লিখতে চায় আজকের যুগের দম্পতিরা—যেখানে বয়স নয়, মুখ্য হয়ে ওঠে মন।

এবি/এসএফ