ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী চীনের সেই যুদ্ধ বিমান কিনবে বাংলাদেশ

ইতালির তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুন, চীনের জে-১০সি, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

Oct 17, 2025 - 11:03
 0
ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী চীনের সেই যুদ্ধ বিমান কিনবে বাংলাদেশ
ফাইল ফটো

আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত—এই আদর্শে গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবার ঢেলে সাজতে যাচ্ছে এক নতুন যুগে। আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ও বাহিনীটিকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে ব্যাপক আধুনিকায়ন উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে ইতালির তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুন, চীনের জে-১০সি, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান এবং তুরস্ক থেকে ছয়টি টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনা হবে। এরই মধ্যে নীতিগত অনুমোদনের পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য বিমানবাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শালের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ, আইনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিমান সদরের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

এই কমিটি চূড়ান্ত দর-কষাকষি, প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই এবং খসড়া চুক্তিপত্র নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকবে। সরকার চাইছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করতে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের সঙ্গে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতে প্রায় ২২০ কোটি ডলারে ২০টি জে-১০সি বিমান কেনার প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান থেকে ৭২০ মিলিয়ন ডলারে ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে চীন-ভারত উত্তেজনা, মিয়ানমার সংকট ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—বাংলাদেশের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়েছে।

সাবেক সহকারী প্রধান এয়ার কমোডর (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার এই উদ্যোগ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বিমান কেনা নয়, বরং গোয়েন্দা, সার্ভেইল্যান্স, কমিউনিকেশন, এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন। আমাদের জনবল দক্ষ—শুধু আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “ইউরোফাইটার টাইফুন ও জে-১০সি দুটোই বিশ্বমানের যুদ্ধবিমান। টাইফুনের অ্যান্টিশিপ মিসাইল ক্ষমতা নৌবাহিনীকে দূরপাল্লার সুরক্ষা দিতে পারবে। অন্যদিকে জে-১০সি ব্যয়সাশ্রয়ী এবং পশ্চিমা শর্তমুক্ত একটি চমৎকার বিকল্প।”

ইতালির ইউরোফাইটার টাইফুন ৪.৫ প্রজন্মের একটি মাল্টিরোল ফাইটার, যা ঘণ্টায় প্রায় ২,৪৯৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এবং সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় অভিযান চালাতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার হালকা ওজনের, দ্রুত গতির, এবং সব আবহাওয়ায় যুদ্ধ সক্ষম একটি জেট। তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার দিনে-রাতে যেকোনো পরিবেশে আক্রমণ ও গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করতে পারে। আর চীনের জে-১০সি—যা ভারতীয় রাফাল ভূপাতিত করে আলোচনায় আসে—দ্রুত ম্যানুভারিং ও রাডারে অদৃশ্য হওয়ার দক্ষতায় বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

ওয়ার পাওয়ার বাংলাদেশ ডটকমের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ২১২টি বিমান রয়েছে, যার মধ্যে ৪৪টি যুদ্ধবিমান। এফ-৭ এবং মিগ-২৯বিই এখন পর্যন্ত বাহিনীর মূল আক্রমণক্ষম শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্ত হবে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শুধু আকাশ নয়, পুরো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হয়ে উঠবে আরও গতিশীল, আধুনিক ও বিশ্বমানের এক বাহিনী।

এবি/সিএস