সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ, মানবাধিকার সংকটে বাংলাদেশ
“এখন হয় সন্ত্রাসী হিসেবে জেলে থাকা, নয়তো মবের হাতে নিহত হওয়া—এর বাইরে আমাদের কোনো বিকল্প নেই। নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার অভাবে সরকার মানুষের আস্থা হারাচ্ছে।”
আন্তঃবাণী ডেস্ক: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধন ও এর প্রয়োগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বক্তব্যকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, অথচ প্রকৃত হামলাকারীরা দণ্ডমুক্ত থেকে যাচ্ছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর জামিন শুনানির সময় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে হেলমেট, হাতকড়া ও বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরিয়ে আদালতে আনা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অন্য এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালান। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, এটি ছিল একটি আলোচনা সভা, কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তাহলে কীভাবে এটিকে সন্ত্রাসবাদ বলা যায়?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল জনতার (মব) হামলায় অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন। এক রাজনৈতিক কর্মী বলেন, “এখন হয় সন্ত্রাসী হিসেবে জেলে থাকা, নয়তো মবের হাতে নিহত হওয়া—এর বাইরে আমাদের কোনো বিকল্প নেই। নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার অভাবে সরকার মানুষের আস্থা হারাচ্ছে।”
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন করা হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, পরবর্তী সময়ে যেমন এর অপব্যবহার হয়েছে, তেমনি ২০২৫ সালের সংশোধনীর পরও আইনটি রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিল সতর্ক করেছে, সংশোধিত আইন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় সম্প্রতি ঢাকায় তিন বছরের জন্য একটি মিশন চালু করেছে। মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, এটি বাংলাদেশের মানবাধিকার অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অপরদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি মন্তব্য করেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকারের উচিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আইনের অপব্যবহার বন্ধ না হলে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আরও বড় সংকটে পড়বে।
এবি/সিএস





