সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: “আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত”
আওয়ামী লীগ দেশের জন্য কাজ করেছে, দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের মানচিত্রে মর্যাদার স্থানে নিয়ে গেছে। এই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের কথা ভাবা মানে দেশের জনগণকে বাদ দেওয়া।
আন্তঃবাণী ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হলে দলটির লাখো সমর্থক সেই নির্বাচন বর্জন করবে। তিনি এটিকে শুধু অন্যায্য নয়, বরং “আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত” বলেও মন্তব্য করেছেন।
নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে বলেন, “পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক, এমন পরিস্থিতি থাকলে ভোটে অংশ নেবে না। একটি কার্যকর রাজনৈতিক সিস্টেম চাইলে আপনি লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।”
১৫ বছর টানা ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটি শেখ হাসিনার প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার। তিনি বলেন, “আমরা অন্য দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনো আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা নিজেরাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবো।”
২০২৪ সালের অগাস্টের রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভারত আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার দলকে বাদ দিয়ে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, তিনি দেশে ফিরবেন না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচনী বৈধতা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি ভারতে অবস্থান করবো।”
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের জন্য কাজ করেছে, দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের মানচিত্রে মর্যাদার স্থানে নিয়ে গেছে। এই দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের কথা ভাবা মানে দেশের জনগণকে বাদ দেওয়া।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “এই কার্যক্রমগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক। যেখানে রায় আগেই ঠিক করা হয়। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের হাতে নির্ধারিত নয়। আমাদের লক্ষ্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।”
দিল্লিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি এখানে মুক্তভাবেই থাকি, তবে বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে—সরকারে হোক বা বিরোধী দলে, দেশের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।”
১৯৭৫ সালের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হারানো শেখ হাসিনা সব সময়ই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা যেই দেশটি স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটিকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
এবি/সিএস





