বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে ফের ভারতকে চিঠি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতের প্রতিনিধিদল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ট্রেন চালাতে রাজি হয়নি।

Oct 29, 2025 - 13:30
 0
বাংলাদেশ-ভারতের যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে ফের ভারতকে চিঠি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর বিষয়ে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো। তিনি বলেন, “আমরা আগেও চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। গত জানুয়ারি মাসে দিল্লিতে আইজিআরএমের মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তখন ভারতের প্রতিনিধিদল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ট্রেন চালাতে রাজি হয়নি। এরপর তারা আর কোনো বক্তব্য দেয়নি। তাই আমরা পুনরায় চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টে ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু ভারত সাড়া দেয়নি। তবে ১৯ আগস্ট পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেয় ভারত। সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশ রাতেই পণ্যবাহী ট্রেন চালানো শুরু করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা রেলওয়ে থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি নেই। ভারত চাইলে যে কোনো সময় যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব।”

যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পেছনে মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দায়ী। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ সব ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-ভারত মধ্যবর্তী যাত্রীবাহী ট্রেনও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মিতালি এক্সপ্রেস, মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া শাখার এক কর্মকর্তা জানান, “এটি মূলত কূটনৈতিক ইস্যু। বাংলাদেশ ও ভারতের সমঝোতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। আগের চিঠিগুলোর জবাবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি দেয়নি।”

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আটটি ইন্টারচেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পাঁচটি সচল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুই দেশের সমন্বয় অপরিহার্য বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় মনে করছে।

এবি/সিএস