শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনাল ছাড়লেন ১৫ সেনা কর্মকর্তা

সকাল সোয়া ৭টার দিকে “বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান” লেখা সবুজ রঙের গাড়িতে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

Oct 22, 2025 - 10:55
 0
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজনভ্যানে ট্রাইব্যুনাল ছাড়লেন ১৫ সেনা কর্মকর্তা

আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে বের করে আনা হয়।

এর আগে সকাল সোয়া ৭টার দিকে “বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান” লেখা সবুজ রঙের গাড়িতে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সকাল ৮টার পর তিন মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আজ মোট তিন মামলার ১৫ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর মধ্যে টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জনকে আনা হয়। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের আদালতে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর।

জেআইসি সেলে গুমের অভিযোগে আরেক মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে হাজির করা হয়। এ ক্ষেত্রেও আদালত একই নির্দেশ দেন। এ মামলার শুনানির তারিখও ২০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মামলায় হাজির হওয়া দুই আসামিকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫ নভেম্বর।

গত ৮ অক্টোবর এই তিন মামলায় মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ১১ অক্টোবর তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এদিকে, তাদের আদালতে হাজিরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাকরাইল, পল্টন, মৎস্য ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সকাল থেকেই পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনা সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট এলাকা ঘিরে।

এবি/সিএস