টাকার অভাবে লাশ আটকে রেখেছিল হাসপাতাল, ছাড়ালেন নারায়ণগঞ্জের ডিসি

মানবতার পাশে দাঁড়ানোর আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

Oct 11, 2025 - 20:09
 0
টাকার অভাবে লাশ আটকে রেখেছিল হাসপাতাল,  ছাড়ালেন নারায়ণগঞ্জের ডিসি
সংগৃহীত

আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: মানবতার পাশে দাঁড়ানোর আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা। টাকার অভাবে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল যখন এক অসহায় বাবার মেয়ের লাশ আটকে রেখেছিল, তখন দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে মানবিকতার টানে এগিয়ে আসেন এই জেলা প্রশাসক। তাঁর হস্তক্ষেপেই শেষ পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা পর পরিবারের হাতে ফিরে আসে মেয়ের মরদেহ।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার। রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের রিংকু শরীফের মেয়ে পিংকি শরীফ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পাশে বিএনকে হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বিল দাবি করে লাশ আটকে রাখে। অসহায় বাবা রিংকু আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে লাশ ছাড়ানোর অনুরোধ করলেও তাতে রাজি হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি নজরে আসে নারায়ণগঞ্জের ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞার। বিষয়টি জানার পর তিনি যোগাযোগ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনির সঙ্গে এবং মানবিক কারণে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। শেখ মোমেনা মনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল হাসানকে জানান। এরপর দ্রুত পদক্ষেপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিংকুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং রাত ১০টার দিকে পিংকির মরদেহ ও নবজাতক কন্যাকে হস্তান্তর করে।

অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ডিসি জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়ে মানবিক উদ্যোগের অনুরোধ করেন। তাঁর সচেতনতা ও আন্তরিকতার কারণেই দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়েছে।’

ডা. মঈনুল হাসান জানান, ‘অতিরিক্ত সচিব মহোদয়ের নির্দেশে হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলে আমরা মানবিক কারণে লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করি। কৃতিত্ব প্রথমেই ডিসি সাহেবের।’

ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমি আবেগতাড়িত হই। যদিও ঘটনাটি আমার জেলার বাইরে, তবু মানবিক কারণে উদ্যোগ নিয়েছি। দায়িত্বের বাইরে হলেও এই ধরনের কাজ আত্মিক প্রশান্তি দেয়, যা কোনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।’

পিংকির বাবা রিংকু শরীফ জানান, ‘আমার মেয়ের নবজাতকও রাতে মারা গেছে। মা-মেয়েকে একসঙ্গে দাফন করেছি। ডিসি সাহেব, অতিরিক্ত সচিব ম্যাডাম ও ডা. হাসান আমাদের জন্য যা করেছেন, তা কোনোদিন ভুলব না। তারা আমাদের আপনজন হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, পিংকিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও এক দালালচক্রের প্ররোচনায় তাকে ভর্তি করা হয় বিএনকে হাসপাতালে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা না পেয়ে লাশ আটকে রাখে। বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের ডিসি’র উদ্যোগেই অবশেষে মুক্ত হয় পিংকির লাশ।

এবি/সিএস