রূপনগরের আগুনে নিহত ১৬: গেট বন্ধ করে দেওয়ায় বের হতে পারেনি অনেকে

স্বজনরা দিশেহারা হয়ে ছুটছেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে।

Oct 14, 2025 - 21:02
Oct 14, 2025 - 21:02
 0
রূপনগরের আগুনে নিহত ১৬: গেট বন্ধ করে দেওয়ায় বের হতে পারেনি অনেকে
সংগৃহীত

আন্তঃবাণী প্রতিনিধি: রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে একটি গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। চারপাশে শোক আর কান্নার দৃশ্য। স্বজনরা দিশেহারা হয়ে ছুটছেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছে। কেউ হারিয়েছেন ছেলে, কেউ ভাই, কেউ ভাগনি।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশ ঘিরে রেখেছেন উৎসুক জনতা ও নিখোঁজদের স্বজনরা। বাতাসে ধোঁয়ার গন্ধ, চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুরো ভবনটি ঘিরে রেখেছেন, কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিকেল ৫টার দিকে সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়— তখন নতুন করে স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের ধারণা, ভেতরে আরও মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

এই গার্মেন্টস কারখানাতেই কাজ করতেন ২০ বছর বয়সী রবিউল্লাহ। সকাল থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। ছেলের খোঁজে মা ছুটছেন একবার পুলিশের কাছে, একবার সেনাবাহিনীর কাছে, আবার ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কাছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘ছেলেটা আমার বেঁচে আছে তো?’ তারপর আবার তাকালেন ধোঁয়ায় ঢেকে থাকা ভবনের দিকে।

রবিউল্লার বড় ভাই হাবিবুল্লাহ আন্তঃবাণীকে বলেন, “আমার ভাই এই গার্মেন্টসে কাজ করত। আগুন লাগার পর থেকে কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সকালে আগুন লাগার পর নিচের গেট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তাই ৩য় ও ৪র্থ তলা থেকে কেউ বের হতে পারেনি। ওই দুই ফ্লোরে প্রায় ১০০ জন ছিলেন।”

এই অভিযোগের সঙ্গে মিলে যায় আরও কয়েকজন স্বজনের বক্তব্যও। তারা জানান, আগুন লাগার সময় ভেতরে অনেক শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। কেউ কেউ কাচ ভেঙে বের হতে পেরেছেন, কিন্তু অধিকাংশই বের হতে পারেননি।

ঘটনাস্থলে থাকা নিপা নামে এক নারী জানান, তার বোনের ছেলে রবিন পোশাক কারখানার তিন তলায় কাজ করতেন। “আগুন লাগার পর থেকে ওর কোনো খবর নেই। বারবার ফোন দিয়েছি, কোনো সাড়া পাইনি। এখন জানি না, ও বেঁচে আছে কি না।”

একইভাবে ভাগনি মাহিরার ছবি হাতে নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার ভাগনি মাহিরা তিন তলায় কাজ করত। আগুন লাগার পর থেকে ওর কোনো খবর নেই। চারদিকে খুঁজেছি, হাসপাতালেও খোঁজ নিয়েছি— কোথাও পাইনি।”

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, “এখন পর্যন্ত আমরা ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ধারণা করছি, কেমিক্যাল গোডাউনে বিস্ফোরণের পর নিঃসৃত বিষাক্ত গ্যাসেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভবনটি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ভেতরে এখনো আগুন জ্বলছে। কেমিক্যাল পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। সবাইকে বলছি, অন্তত ৩০০ গজ দূরে নিরাপদে থাকুন। কেমিক্যাল নিষ্ক্রিয় করার পর সার্চিং শুরু হবে।”

এদিকে, আগুনের উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তারা জানায়, উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এবি/সিএস